রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

সর্বশেষ সংবাদ :
চট্টগ্রাম জামেয়া ময়দানে লাখো মুসল্লীদের উপস্থিতিতে আল্লামা তৈয়্যেব শাহ্ (রহ.) এর পবিত্র ওরশ মোবারক উৎযাপিত ঢাকায় সৈয়দ তৈয়্যেব শাহ্ (রহ.) এর পবিত্র ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত মাহবুবা স্মৃতির গল্প: দীর্ঘছায়া স্বীকৃতি পেতে শেষ পর্যন্ত ঘুষের আশ্রয় নিচ্ছে ইসরাইল: কিন্তু কেন এ ব্যর্থতা? সাঁওতালপল্লিতে হত্যা-অগ্নিসংযোগে ৯০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল পিবিআই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালোদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার বিএনপি নেতাদের মুখে বিচারহীনতার কথা শোভা পায় না: ওবায়দুল কাদের ভাটপাড়ায় বহিরাগত দুর্বৃত্তরা অশান্তি করছে, পুলিশ ব্যবস্থা নিক: ফিরহাদ হাকিম ইয়েমেন থেকে বহু সেনা প্রত্যাহার করেছে আরব আমিরাত ইসরাইলের কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসকে বেচতে দেব না: মাহমুদ আব্বাস
অনাকাঙ্খিত ভালোবাসা: মাহবুবা স্মৃতির গল্প

অনাকাঙ্খিত ভালোবাসা: মাহবুবা স্মৃতির গল্প

অনাকাঙ্খিত ভালোবাসা

মাহবুবা স্মৃতি

 

ফুটন্তর সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছে আজ প্রায় ৩ মাস হতে চললো! অথচ কোনো ভাবেই মাথা থেকে আমি ওকে সরাতে পারছি না। ইদানিং অনেক বেশিই মিস করি ওকে, যা করা আসলে অন্যায়। কারণ ওএখন অন্যের স্ত্রী। তবুও মন মানে না, ওর সাথে দেখা হবার পর থেকেই কষ্টেরা আচমকা জেগে উঠেছে নতুন করে, খুব কষ্ট হয় আমার। যদিও শেষবার যখন দেখা হয়, তখন অনেকটা ওর কাছ থেকে পালিয়েই চলে আসি। কেন আসি, জানি না। হয়তো মায়া আর কষ্টটা বাড়াতে চাইনি। অবশ্য দেখাও হয়েছিল অদ্ভুত ভাবে।

আমি যে স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করি, স্কুলটার নাম ‘আর জি উচ্চ বিদ্যালয়’। ঢাকা থেকে নিজের গ্রাম সাউথকান্দি যতোবার যাই, চেষ্টা করি স্কুলে গিয়ে স্যারদের সাথেও দেখা করে আসতে।

তবে ঐ যাওয়াটা ছিল আমার জন্য বড় বেশি যন্ত্রণার। না গেলেই বোধহয় ভালো করতাম!

কিছুদিন আগে গ্রামে গিয়েছিলাম। ঢাকায় চলে আসার আগের দিন স্কুলে গিয়ে স্যারদের সাথে দেখা করি। স্যারদের সাথে কথা বলে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটছিলাম’,আহ! সেই মাটির ঘ্রাণ!’ গ্রামের সৌন্দর্যে মত্ত হয়ে যখন ধীরে ধীরে পা ফেলছি, ঠিক তখনি পরিচিত ১টা মেয়ের কন্ঠ ভেসে এলো ,”এই..সজল, একটু দাঁড়াও.. “পিছনে ফিরে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকি। মেয়েটা দৌড়ে এসে থামে। হাঁপাচ্ছে সে! চোখে মুখে কেমন করুণ আকুতি..

আমি কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না, গলায় কথা আটকে গেছে!

-কি হলো, চিনতে পারোনি? আমি ফুটন্ত..

-আমার ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ, তবে এতোটা না যে ২ বছরের পরিচিত কোনো মুখকে এতো দ্রুত ভুলে যাবো।

আমার কথা শুনে ফুটন্ত সাথে সাথে কান্না শুরু করে দিলো। বুঝলাম না আমি কি এমন বলে ফেললাম যার কারণে ওকে কাঁদতে হবে! অবশ্য ফুটন্তর সামান্য কোনো কারণেই কান্না করার অভ্যাস ছিল, অভ্যাসটা যে এখনো রয়ে গেছে জানতাম না। কিছুটা বিরক্ত হয়েই জিগ্যেস করলাম, ”কাঁদছো কেন? কান্নার কি কিছু বলেছি?”

কান্না না থামিয়েই ও বললো, “আমি কি তোমার শুধুই সামান্য পরিচিত কেউ ছিলাম? এতো তাড়াতাড়ি আমাকে পর করে দিলে?”

মেয়েটির কথা শুনে মুহূর্তেই মনের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ আর বিতৃষ্ণা এসে ভিড় করে। ইচ্ছে করছিল খুব কঠিন কিছু কথা শুনাই ওকে। তাছাড়া অনেকদিনের হিসাব-নিকাশও রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য! এতোদিন ধরে চেপে রাখা সব রাগ আর জমাটবদ্ধ কথাগুলো কিছুতেই মুখে আনতে পারলাম না! কোনো কথাই আজ মুখ থেকে বের হচ্ছে না! শুধু বোকার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলাম ওর দিকে! তাহলে কি সময়ের স্রোতে সব রাগ আর কথারাও হারিয়ে গেছে? নিজেকে আজ অনেক বেশিই অসহায় মনে হলো।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে ফুটন্ত নিজেই জিগ্যেস করলো, “কেমন আছো তুমি?” ততোক্ষণে ও আবার স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

আমার ভিতরে কি হচ্ছে সেটা বুঝতে না দিয়ে কোনোমতে বললাম, “যেমনটা দেখছো।”

-তোমাকে খুব মলিন দেখাচ্ছে।

-তোমার দেখার চোখটাই হয়তো ঝাপসা হয়ে গেছে, তাই এরকম মনে হচ্ছে। আমি ঠিকই আছি।

-তা ইদানিং কি করছো?

-তেমন কিছু না, চাকরির জন্য দৌড়ঝাঁপ ।

ফুটন্ত ছোট্ট করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার জিগ্যেস করলো, “আমি কেমন আছি, জানতে চাইবে না?

-তুমি কেমন আছো সেটাতো দেখতেই পাচ্ছি..

-কেমন দেখছো আমাকে? আহত গলায় জিজ্ঞেস করে ফুটন্ত।

আমি কিছু ১টা বলতে যাবো, তখনি ওদের বাড়ির ভিতর থেকে কেউ ফুটন্তকে ডাক দেয়। আশ্চর্য! আমি কি মনের অজান্তেই আজ ওদের এদিকটায় চলে এসেছিলাম!

ফুটন্ত আমার চিন্তার ইতি ঘটিয়ে বললো, “একটু দাঁড়াবে প্লিজ.. আমি শুনে আসি কেন ডাকছে। আমি এখুনি চলে আসবো।” এই বলে সে বাড়ির ভিতরে চলে গেল। ও যাওয়া মাত্রই আমি উল্টোপথ ধরে হাঁটা শুরু করলাম। আমি হাঁটছি, তবে পথ যেনো শেষ হচ্ছে না। অনেককিছুই মাথার মধ্যে এসে ভিড় করছে আজ। ফুটন্ত আমার প্রথম প্রেম, শেষ প্রেমও বলা যায়। কলেজে থাকাকালীন পরিচয় হলেও HSC পরীক্ষার সময় থেকে সম্পর্কের শুরু আমাদের, তার ঠিক ২ বছর পর পরই ফুটন্তের বিয়ে হয়ে যায়, আমাদের ভালোবাসারও অপমৃত্যু ঘটে। ফুটন্ত চলে যাওয়ার পরে আর প্রেম হয়নি, অবশ্য এখন আর ঐ প্রেম নামক শব্দটি আমাকে টানেও না।

আমার ভাবনার ইতি ঘটালো ১টা ফোন এসে। বিরক্ত হয়ে তাকালাম নাম্বারটার দিকে। ইদানিং তিন্নি নামের একটি মেয়ে মেসেজ আর কল দিয়ে খুব বিরক্ত করছে। মেয়েটি নাকি আমার পাশের থানার। যদিও থাকে ঢাকায়। আচ্ছা ত্রিশাল থানার পাশের থানা যেনো কোনটা? আশ্চর্য! আমি কি সব ভুলতে বসেছি! চিন্তা বেশিক্ষণ করতে পারলাম না, ফোন বাজছে এখনো। মেয়েটার ধৈর্য্য আছে! প্রথমদিকে ফোন দিতে মানা করেছি , তারপর প্রচুর অপমান করেছি, তা সত্ত্বেও মেয়েটির ফোন আর মেসেজ দেয়া বন্ধ হয়নি। ভাবছি মেয়েটার সাথে একদিন দেখা করে বুঝিয়ে বলব, আমার পক্ষে আর প্রেম টেম করা সম্ভব নয়। মেয়েটিকে সামনাসামনি শক্ত কিছু কথাও বলতে হবে।

আজ তিন্নি নামের মেয়েটার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। একটি মেয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, অথচ আমার মধ্যে কোনো ফিলিংস বা ভালো লাগা কোনোটাই কাজ করছে না, বরং বিরক্ত লাগছে খুব। অথচ ফুটন্তর সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় অন্য রকম ১টা ফিলিংস কাজ করতো, যাওয়ার পথে বুকটা ধড়ফড় করতো। মনে মনে কতো ভালোবাসার সব কথা যে তৈরী করে রাখতাম ওকে বলবো বলে। কিন্তু আজ! সম্পূর্ণ ফিলিংলেস হয়ে মনে মনে কিছু শক্ত কথা গুছিয়ে বের হয়েছি।

এই মুহূর্তে তিন্নি আমার চোখের সামনে বসে আছে, অসম্ভব সুন্দরী ১টা মেয়ে। বয়সে আমার চেয়ে প্রায় ৪-৫ বছরের ছোট হবে। সাধারণত সুন্দরিদের চেহারায় মায়া জিনিসটা খুব কম থাকে, কিন্তু ওর বেলায় এটা সত্য না। চেহারায় অদ্ভুত একটা মায়া কাজ করছে। কিন্তু ওর সৌন্দর্য আমাকে টানছে না, কিন্তু কিছু একটা বিষয় আমাকে বেশ আকর্ষণ করছে! কিন্তু কি সেটা? ধরতে পারছিনা..ধ্যাত! কিসব ভাবছি আমি! আমরা মুখোমুখি বসা, দুইজনই নীরব..

তিন্নিই প্রথম নীরবতা ভাংলো ।ও কোনো রকম ভণিতা না করে যা বললো, তা হলো-“আপনার কাছে একটা জিনিস চাইব, যা চাইব তাই দিবেন কেমন! এর বিনিময়ে আপনি যা চাইবেন, আমিও তাই দিবো।”

আমি মেয়েটার কথা শুনে তাজ্জব হয়ে যাই! প্রথম সাক্ষাতে মেয়েটি ভালোমন্দ কিছু জিগ্যেস না করে লেনাদেনার মধ্যে চলে গেল! আমার কি বলা উচিত, বুঝতে পারছি না। মেয়েটি কি কোনো কারণে আমার সাথে চালাকি করতে চাচ্ছে, ও আবার আমাকে চাইবে নাতো! রাগ লাগছে, তবে আমিও কথাবার্তা বেশ সাবধানে চালাতে থাকলাম। বললাম,” ও

কে, তুমি যা চাইবে, তাই দিবো,  তবে আমার একটা কন্ডিশন আছে।”

– কি কন্ডিশন বলেন?

-আমাকে চাইতে পারবে না।

-ঠিক আছে, আপনাকে আমি চাই না, আমি আপনার মন চাই। আশা করি দিবেন, আপনি কি চান বলেন?

আমি এবার তো পুরাই.. মেয়েটা তো ভারী ধুরন্ধরবাজ! আমতা আমতা করে বললাম,”মন চাইছো মানে? আমার মনটা ত আমারই, এটা হবে না। অন্যকিছু চাও।”

-ঠিক আছে, মন দেয়ার দরকার নেই। আমি আপনার হাত ঘড়িটা চাই, ঘড়িটা দেন।

আমি অবাক হলেও সাথে সাথে হাত ঘড়িটা খুলে দিয়ে দিলাম। এই পাগলের সাথে বেশিক্ষণ থাকা অসম্ভব! বললাম, “হাত ঘড়িটার বিনিময়ে হলেও আমাকে মুক্তি দাও। নাও হাতঘড়ি ..তবুও বিরক্ত করে মারবে না প্লিজ.. এই বলে দাঁড়িয়ে পড়লাম! এখানে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।

-এই যে শুনুন..

আমি তাড়াতাড়ি তাকালাম মেয়েটার দিকে!

-কথাতো এখনো শেষ হয়নি। আপনি দাঁড়িয়ে পড়লেন কেন?

-আবার কি?

-বসুন, তারপর বলছি।

আমি হতাশ হয়ে বসলাম আবার।

-দেখুন, আপনার মন চেয়েছিলাম, বললেন মনটা আপনার, তাই দিলেন না! অথচ ঘড়িটা চাওয়ামাত্র সাথে সাথে দিয়ে দিলেন! ঘড়িটাও তো আপনার ছিলো, তাই না? আপনার ঘড়িটা যদি দিতেই পারেন, মনটা দিচ্ছেন না কেন? নিজের ঘড়ি যেহেতু দিতে পেরেছেন, মনটাও দিতে পারবেন।

তিন্নির উল্টা পাল্টা যুক্তি শুনে আমার মাথায় হাত রাখা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। বুঝলাম মেয়েটা নাছোড়বান্দা। কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না।

নিজেকে শান্ত করে বললাম, “ঠিক আছে, মনের ব্যাপারটা নিয়ে পরে কথা হবে। আমি আগে ১টা জিনিস জানতে চাই।” কথাটা শোনামাত্র তিন্নি হেসে উঠে, “একি! ওর হাসি শুনে বুকের বামপাশটা কেমন চিনচিন করে উঠল, তিন্নির হাসি একদম ফুটন্তর মতো! “আমি আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছি।

তিন্নির ডাকে হুঁশ হলো, “-কি হলো? কি ভাবছেন? বলুন, কি জানতে চাচ্ছেন?

-তুমি আসলে কে? তোমার পরিচয় জানতে চাই!

তিন্নি কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর যা উত্তর দিলো, সেটার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না!

“আমি ফুটন্ত আপুর ছোট বোন।”

আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে! ফুটন্তর এক ছোট বোন আছে, আমি জানতাম। কিন্তু কখনো চোখে দেখিনি। প্রায়’ই ফুটন্ত ওর বোনের গল্প করতো। তবে ওর ছোটবোন বাড়িতে থাকতো না, মামার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো। ও-কি তবে সেই! অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, “রূপন্তি!”

-হ্যাঁ..

-পরিচয় গোপন করার মানে কি ছিল?

-আপনার কাছে আসার এটাই একমাত্র উপায় ছিল।

-আমার কাছে আসার এত প্রয়োজন ছিল কেন শুনি?

-আপুর কাছে আপনার কথা অনেক শুনেছি..আপনি আপুর জন্য খুব কষ্ট পাচ্ছেন..

-আমি কষ্ট পাচ্ছি কি পাচ্ছিনা, সেটা বুঝলে কি করে? আমার কষ্টগুলো অনেক আগেই..থাক, এসব পুরনো কথা বলে লাভ কি!

-দরকার আছে, এবং আপনি না বললেও আমি জানি আপুর জন্য আপনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন..তবে অনুরোধ আপুর প্রতি কোনো রাগ পুষে রাখবেন না..

-আমার কারো প্রতিই কোনো রাগ বা অভিযোগ কিচ্ছু নেই।

-আছে কি নেই, সেটা বুঝতে পারছি। জানেন? আপু আপনাকে খুব ভালোবাসতো, জোর করে আপুকে বিয়ে দেয়া হয়েছিল, আপু নিজেকে অপরাধী ভাবতো সবসময়। অনুশোচনায় ভুগতো সারাক্ষণ। সেজন্য শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আপু কারো সাথেই ভালোভাবে মিশতে পারেনি। শেষবার অসুস্থ হয়ে পরলে বাবা আপুকে বাড়িতে নিয়ে আসে। হঠাৎ একদিন আপনাকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে যায়, ইচ্ছে ছিল ক্ষমা চাইবে। কিন্তু বাড়ি থেকে এসে দেখে আপনি চলে গেছেন। আপু খুব কেঁদেছিল সেদিন। শুধু ১টা কথাই বারবার বলছিল আমাকে, “মৃত্যুর আগে ওর কাছে ক্ষমা চাইতে পারলাম না।”

-মৃত্যুর আগে মানে!! সজলের বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে..

-আপু অনেকদিন ধরে অসুস্থ ছিল, কাউকে বুঝতে দেয়নি। আপুকে ডাক্তারের কাছে নিতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল..আপুর ব্রেইন টিউমার হয়েছিল..”এই বলে রূপন্তি কাঁদতে থাকে।

আমার সমস্ত শরীর কাঁপতে থাকে। কাঁপা কাঁপা গলায় জিগ্যেস করলাম, “এখন সে..

কাঁদতে কাঁদতেই রূপন্তি জবাব দেয়,” আপু ২মাস আগে মারা গেছে..”

আমি মনে হয় মাথা ঘুরে পড়ে যাবো.. কোনোমতে চেয়ারটা ধরে বসি। রূপন্তি কাঁদছে, আর স্তব্ধ হয়ে বসে আছি আমি। বেশ কিছুক্ষণ পর রূপন্তি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো, “আমি আপুর শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই।”

জিজ্ঞাসু চোখে তাকালাম ওর দিকে..

-আমি আপনার কষ্টের ভাগ নিতে চাই..

-হোয়াট! কি বলছো এসব তুমি? ননসেন্স এর মতো কথা বলতে লজ্জা লাগলো না তোমার!

-আমি ননসেন্স, সারাজীবন থাকতে চাই, কিন্তু..

-একদম চুপ!

রাগে আমার সমস্ত শরীর কাঁপছে তখন।

আমি আমার নিজের মাথার চুল চেপে ধরি। একে থাপ্পড় দিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু ফুটন্তর কথা মনে হতেই ব্যথারা এসে ভর করে বুকে। টেবিলে মাথা রেখে নোনাজলের স্বাদ নিচ্ছিলাম, ওমনি একটা হাতের স্পর্শ পেয়ে চমকে তাকালাম, “প্লিজ কাঁদবেন না,  আপনার জন্য সত্যি খুব খারাপ লাগছে। আপনার কষ্টের পুরো ভাগ আমি নিয়ে নিতে পারলে খুব ভালো হতো..আপুও হয়তো..”

আমার কি হলো জানি না, ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেই রূপন্তির গালে। তারপর বলি,”ফুটন্তর মৃত্যুর কথা শোনানোর পর তুমি এরকম কথা কিভাবে বলো আমাকে? তোমার কি বিবেক মরে গেছে? আরে তুমি কোথায়..” আমি ওকে বাকি কঠিন কথাগুলো বলতে গিয়েও থেমে যাই। এরপর উঠে হাঁটা শুরু করলাম।কেন জানি না, আচমকা মেয়েটির জন্য মায়া হচ্ছে খুব! মেয়েটির চোখদুটো ফুটন্তর মতো..মনে হচ্ছে ফুটন্ত আমার কাছে ফিরে এসেছে, আর ফুটন্তকে আমি ২য় বারের মত হারাচ্ছি! আমি আর পা ফেলতে পারলাম না, মনে হলো পিছন থেকে কেউ আমাকে খুব করে ডাকছে। হাঁটা বন্ধ করে পিছনে তাকালাম, দেখি রূপন্তি তখনো অঝোরে কান্না করছে। আমি আর নিজেকে সংযত করতে পারলাম না। দৌড়ে গেলাম ওর কাছে। জিগ্যেস করলাম, “এই বোকা মেয়ে কাঁদছো কেন?”

ও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো,”কাঁদছি, তো আপনার কি? আপনি আবার আসছেন কেন?”

-আমার হাতটা একটু ধরবে?

-আমি আপনার হাত চাইনি, মন চাইছিলাম! আর কষ্টের ভাগ নিতে আসছিলাম..

ওর কথা শুনে মনের অজান্তেই হেসে ফেলি।

-কান্না থামাও, আর আমার হাতটা ধর..

রূপন্তি বাধ্য মেয়ের মতো আমার হাতটা ধরে, তবে কাঁদছিলো তখনো। আমি ওর হাতটা তখন আরো বেশি শক্ত করে ধরে অনাগত ভবিষ্যতের দিকে হাঁটা শুরু করি……..

মূল ভাবনা: জুবায়েদ ছোটন ভাইয়া

 





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com