রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৫২ অপরাহ্ণ

সর্বশেষ সংবাদ :
চট্টগ্রাম জামেয়া ময়দানে লাখো মুসল্লীদের উপস্থিতিতে আল্লামা তৈয়্যেব শাহ্ (রহ.) এর পবিত্র ওরশ মোবারক উৎযাপিত ঢাকায় সৈয়দ তৈয়্যেব শাহ্ (রহ.) এর পবিত্র ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত মাহবুবা স্মৃতির গল্প: দীর্ঘছায়া স্বীকৃতি পেতে শেষ পর্যন্ত ঘুষের আশ্রয় নিচ্ছে ইসরাইল: কিন্তু কেন এ ব্যর্থতা? সাঁওতালপল্লিতে হত্যা-অগ্নিসংযোগে ৯০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল পিবিআই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালোদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার বিএনপি নেতাদের মুখে বিচারহীনতার কথা শোভা পায় না: ওবায়দুল কাদের ভাটপাড়ায় বহিরাগত দুর্বৃত্তরা অশান্তি করছে, পুলিশ ব্যবস্থা নিক: ফিরহাদ হাকিম ইয়েমেন থেকে বহু সেনা প্রত্যাহার করেছে আরব আমিরাত ইসরাইলের কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসকে বেচতে দেব না: মাহমুদ আব্বাস
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি

আইন-আদালত ডেস্ক: নির্বাচনে প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীর নামে হরহামেশায় অভিযোগ করেন। আবার সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনও বিএনপিকে সতর্ক করেছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য। কিন্তু আইনে আসলে কি আছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণ হিসেবে। আর বিধি লঙ্ঘিত হলে এর সাজাই বা কি হবে? বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অবলম্বনে জেনে নেয়া যাক এর বিস্তারিত।



আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাখ্যায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ডঃ এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধির আওতায় পরে যাচ্ছেন সবাই। নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন না আসা পর্যন্ত এখন যেভাবে পোষ্টার ব্যানার লাগানো হচ্ছে বা দল বেধে মিছিল করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা তার সবকিছুই আসলে অবৈধ।

তিনি সবচাইতে বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছিলেন। তিনি জানান, পোস্টার লাগানোর বিষয়ে প্রচুর আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে। নির্বাচনের পোষ্টার সাদাকালো হতে হবে। কিন্তু সাদাকালো পোস্টার তেমন দেখা যায়না। পোস্টারে দলের নেতা ছাড়া আর কারো ছবি দেয়া যাবে না। তবে বেশিরভাগ পোস্টারে প্রার্থী ছাড়াও আরও অনেকের ছবি থাকে। পোস্টারে কোন ছাপাখানা থেকে কতগুলি ছাপানো হল তার তথ্য পরিষ্কার থাকতে হবে। পোস্টার দেয়ালে, গাড়িতে এমনকি গাছেও লাগানো নিষেধ। শুধুমাত্র রাস্তার উপরে দড়ি দিয়ে পোস্টার ঝোলানো যাবে। নির্বাচনের সময় দেয়াল লেখনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।



তিনি জানান, যত্রতত্র ক্যাম্পেইন অফিস বানানো নিষেধ। এখন নিয়ম হল একটি পৌরসভায় প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্পেইন অফিস থাকতে পারবে। সেই কার্যালয়ে টেলিভিশন রাখা নিষেধ, মাইক লাগানো যাবে না। দুপুর দুটো থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এইটুকু সময় প্রার্থীরা প্রচার করতে পারবেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে এই নিয়ম করা হয়েছে। একটি ওয়ার্ডে তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার নিষেধ। ভোট পাওয়ার জন্য মানুষজনকে দাওয়াত দেয়া, খাওয়ানো বা উপহার দেয়া নিষেধ। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা শুরু করা যাবে না।

মন্ত্রী ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য কী বলা আছে?

এই সময়ে কোন মন্ত্রী তার এলাকায় গেলে প্রোটকল পাবেন না। কাগজে অবশ্য বলা আছে কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এই সময় তারা কোন উন্নয়নমূলক কাজ উদ্বোধন করতে পারবেন না যা প্রচারণা বলে গণ্য হতে পারে। শুধুমাত্র চলতি প্রকল্প বাদে এই সময় কোন অনুদান দেয়ারও অনুমোদন নেই। নতুন কোন প্রকল্প নেয়া যাবে না। কোন মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় ভোট চাইতে পারবেনা না প্রার্থীরা।



কোনটি সবচাইতে বেশি লঙ্ঘন হচ্ছে?

প্রায় সকল বিষয়ই বাংলাদেশে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে জানান ডঃ এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, কিছু এলাকায় এমনকি বছর-খানেক হল পোস্টার লাগানো শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেগুলো উঠিয়ে ফেলতে বললেও মানছেন না প্রায় কেউই। তবে টাকা খরচের নিয়মটিই সবচাইতে বেশি লঙ্ঘন হচ্ছে। টাকার বিষয়টি উল্লেখ আছে নির্বাচন বিষয়ক আইনে।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার জানান, ২০০৮ সাল থেকে একজন প্রার্থী ভোটার প্রতি দশ টাকা খরচ করতে পারবেন। তবে তার সকল খরচ সর্বোচ্চ ২৮ লাখ টাকার উপরে যেতে পারবে না। কিন্তু কে কিভাবে কত টাকা খরচ করছেন এর এখনো সঠিকভাবে হিসেব করার কোন পদ্ধতি নেই বাংলাদেশে।



সাখাওয়াত হোসেন বলছেন, তাদের পক্ষ থেকে একসময় দৈনিক নির্বাচনী খরচের হিসেব পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছিলো। প্রার্থীরা এখন একবারে একটি হিসেব দিয়ে থাকেন। তবে সেই হিসেব নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়।

শাস্তির ব্যবস্থা কী রয়েছে?

আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে জরিমানা ও জেল দু ধরনের শাস্তির ব্যবস্থাই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে যার এই শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কমিশন তদন্তের জন্য কমিটি তৈরি করে যাতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছয় মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। এর উপরে হলে আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে হবে। চরম শাস্তি হল প্রার্থিতা বাতিল করা। বাংলাদেশে জরিমানা করার নমুনা রয়েছে তবে এর বেশি কিছু করার নমুনা নেই।











© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com