মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০২:৩২ অপরাহ্ণ

মাহে রমজানে গলা কাটার মহোৎসব কি বন্ধ হবে না?

মাহে রমজানে গলা কাটার মহোৎসব কি বন্ধ হবে না?

jiআবছার তৈয়বী

মাহে রমজান মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস। এ মাসে অন্য মাসের তুলনায় রোজাদারগণ বেশ ভালো ও উন্নতমানের উপাদেয় খাবার খেয়ে থাকেন। যদিওবা আর্থিক সঙ্গতি বিশেষে এ খাবার জোগাড় করার ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়। তার পরও সবাই বেশ ভালোই খেতে পারেন অন্য ১১ মাসের তুলনায়। এটা যেন প্রিয়নবী হজরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদিসেরই বাস্তব উদাহরণ। হাদিসে পাকে ইরশাদ হচ্ছে-“রমজান মাসে মুসলমানদের ‘রিজক’ তথা জীবনোপকরণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।” কিন্তু ফি বছর এতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় ব্যবসায়ীদের মাত্রাতিরিক্ত লোভ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমাদের দেশে যারা ভোগ্যপণ্য আমদানি করেন, সেসব ব্যবসায়ীর সংখ্যা পঞ্চাশের নিচে। তারপরও তাদের হাতে জিম্মি দেশের ষোল কোটি মানুষ। এসব ব্যবসায়ীর কেউ হাজি, কেউ গাজী আবার কেউ সুফি তকমা নিয়ে ছড়ি ঘোরান পুরো সমাজে। মাহে রমজানে আল্লাহ্ তা’আলার নিয়ামত এবং রহমতকে অবজ্ঞা করে আল্লাহ্ তা’আলা ও রাসূলের (দরুদ) আদেশ অমান্য করে তারা আবশ্যকীয় দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং অধিক মূল্যে বিক্রি করে। যা শুধু অমানবিকতাই নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিতেও বড় ধরণের অপরাধ। আবার আমাদের দেশে উৎপাদিত শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ খাদ্যপণ্য সামগ্রীর মূল্যও রমজান মাসে বেড়ে যায় সমানতালে। তাহলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কি কোনো উপায় নেই? ব্যবসায়ীরা কি প্রতি বছর রোজাদারদের গলা কাটার প্রতিযোগিতা চালিয়েই যাবেন? প্রিয় পাঠক! না, এভাবে চলতে দেয়া যায় না। একটি কল্যাণমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে এসব চালবাজি, ফেরেববাজি, মজুদদারি এবং গলা কাটা মুনাফাখোরী বন্ধ করতে হবে। এ জন্য আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি যাতে ভোক্তা সাধারণের কাছে পৌঁছে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকেই। সোচ্চার হতে হবে সুশীলসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে। এতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশের আপামর জনসাধারণ তুলনামূলক সস্তা দামে ফরমালিন ও ভেজালমুক্ত টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে পারবে।

প্রিয় পাঠক! এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি গুদামজাত করে সংকট সৃষ্টি করা হারাম ও বড় গুনাহ। মাহে রমজানে সেই গুনাহর পাল্লাটা আরো বেশি ভারী করেন এসব ব্যবসায়ী নামের অসাধু ব্যক্তিরা। এ সম্পর্কে আমাদের প্রিয়নবী হযরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ফাজির-ফাসিক এবং নাফরমান হিসেবে হাশর হবে। কিন্তু যারা (নিজেদের ব্যবসায় অতি মুনাফাখোরী ও ভেজাল মিশ্রণের ক্ষেত্রে) আল্লাহকে ভয় করেছে, অবৈধ পন্থা অবলম্বন থেকে দূরে থেকেছে এবং সততার পরিচয় দিয়েছে তারা ব্যতীত’ (কিমিয়ায়ে সা’আদাত-ইমাম গায্যালী রহ.)। আবার হাদিসে পাকের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী, তাদের হাশর ও জান্নাতে অবস্থান হবে নবীদের সাথে, সিদ্দিক, শহীদ ও আল্লাহর ওলিদের সাথে। সুবহানাল্লাহ্! অন্য আরেকটি হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো বান্দা যদি হারাম বা অবৈধ পন্থায় ধন-সম্পদ উপার্জন করে, সেই ধন-সম্পদ থেকে দান করলে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। সেই সম্পদ থেকে ব্যয় করলে, তাতে বরকত বা সাওয়াব দেয়া হবে না। আর সে যদি তা পরবর্তী বংশধরদের জন্য রেখে যায়, তাহলে সে যেন জাহান্নামের অবলম্বনই রেখে গেল।’ আরেকটি হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হারাম খাওয়ার মাধ্যমে বর্ধিত শরীর জান্নাতে যাবে না’ (বায়হাকি)। প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, হারাম বা অবৈধ ধন-সম্পদ খেয়ে ইবাদত করলে এবং এ থেকে দান করলে তা কবুল তো হবেই না; বরং এ জন্য তাকে দোজখের আগুনে জ্বলতে হবে। তাই এ বিষয়ে সবার সচেতনতা প্রয়োজন।





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com