মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০১৯, ০১:৫৩ অপরাহ্ণ

শীতের শুরুতেই নড়াইলের বিভিন্ন হাটবাজারে জমে উঠেছে খেজুরের গুড় ও পাটালি, ক্রেতাদের ভিড়!

শীতের শুরুতেই নড়াইলের বিভিন্ন হাটবাজারে জমে উঠেছে খেজুরের গুড় ও পাটালি, ক্রেতাদের ভিড়!

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: আজ বুধবার (৫,ডিসেম্বর) শীতের শুরুতেই নড়াইলের বিভিন্ন হাটবাজারে শুরু হয়েছে খেজুর গুড় বিক্রি। পাটালি, নারকেল পাটালি ও জ্বাল দেয়া রস কিনতে ভিড় করছেন আগ্রহী ক্রেতারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এ জেলায় অন্তত ১১৫ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে, যা থেকে
এবার সাড়ে ৯০০ টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, গুড় তৈরির উদ্দেশ্যে এখন প্রতিদিন রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার গাছিরা। একেক জন গাছির আওতায় রয়েছে একাধিক গাছ। কথা হলে লোহাগড়ার আমাদা গ্রামের গাছি জামাল শেখ জানান, সাধারণত নভেম্বরের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত খেজুর রস সংগ্রহ করা যায়। এ বছর তিনি ৮০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এর মধ্যে কিছু গাছে রস এসেছে। বাকিগুলো থেকেও শিগগিরই রস সংগ্রহ করা যাবে। শীত যত জেঁকে বসবে, রসের পরিমাণ তত বাড়বে। সদর উপজেলার চারিখাদা গ্রামের হালিম মোল্যা বলেন, কোনো ধরনের ভেজাল ছাড়াই তারা বাড়িতে রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন। প্রতি কেজি পাটালি গুড়ের দাম রাখা হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর এক ভাড় জ্বালানো ঘন রস বিক্রি করেন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। উড়ানী গ্রামের রাজ্জাক মোল্যা জানান, বাজারে নারকেল পাটালির বিশেষ চাহিদা রয়েছে। খেজুর রস ও নারকেল একসঙ্গে জ্বালিয়ে এ গুড় তৈরি করা হয়। এখন প্রতি কেজি নারকেল পাটালি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। বাজারের
পাশাপাশি অনেকেই তাদের বাড়ি থেকে গুড় কিনে নিয়ে যান। নড়াইলের রূপগঞ্জ ও লোহাগড়ার বাজারের কয়েকজন গুড় বিক্রেতা জানান, স্থানীয় গাছিদের গুড় ছাড়াও যশোর ও উত্তরাঞ্চলে তৈরি গুড়ও নড়াইলের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ক্রেতারা জানান, দাম একটু বেশি হলেও তারা ভালো মানের রস ও গুড় কিনতে চান। এদিকে আগের তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে গাছির সংখ্যাও।

এ ব্যাপারে কালিয়ার রঘুনাথপুরের খেজুর গাছ মালিক সাজ্জাদ হোসেন জানান, গাছির অভাবে তার ২৫টি গাছ থেকে তিন বছর রস সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না। খেজুর গাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য খেজুর গাছের চাহিদা রয়েছে। যে কারণে অনেকেই নগদ টাকার লোভে গাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন। যে কারণে এ অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরে ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণে খেজুর গাছ পোড়ানো হয়েছে। নির্বিচারে খেজুর গাছ কাটা হলেও সে তুলনায় নতুন করে রোপণ করা হয়নি। ইটভাটায় খেজুর গাছের ব্যবহার বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার। এক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি গাছিদের জন্য বেশ লাভজনক। সড়কসহ জমির পাশে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ
সৃষ্টিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার দাবি, সবাই সচেতন হলেই এক্ষেত্রে সফলতা আসবে।





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com