সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইবনে জায়েদের গল্প: ভোগ

ইবনে জায়েদের গল্প: ভোগ

 ভোগ

ইবনে জায়েদ

শাকিল আমার বাল্যবন্ধু। ছোটবেলা থেকেই ওকে আমি চিনি। অনেক স্মার্ট ও কনফিডেন্ট একজন প্লেবয় হিসেবেই সে আমাদের কাছে পরিচিত। আর হবে নাই বা কেনো, মেয়েরাও ওর জন্যই পাগল। ওর যেমন স্মার্ট তেমনি হ্যান্ডসাম। ইংরেজিতে গ্রাজুয়েশন করা তুখোড় একজন ছাত্র ছিলো শাকিল। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা ওর ভারী কণ্ঠে ইংলিশ শোনার জন্য মুখিয়ে থাকতো। ফেসবুকে দেওয়া ছবির লাইক পরে হাজার হাজার। শাকিলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করাটা রীতিমতো শো অফ করে মেয়েরা।

 

শাকিলও এনজয় করে ব্যাপারটা। ব্যবহারও করে ওর শরীরের খিদে মেটাতে। ওর কাছে শরীরটাই সবথেকে বড়। শরীরের মাদকতা ওর জীবনের পরম সত্য। কখনো লুকোয় না একথা, তবু একের পর এক নারী পতঙ্গের মতো ঝাঁপ দেয় ওর রূপ আর গুণের আগুনে। একের পর এক নারীসঙ্গ, তাদের ঘনিষ্ঠতা ওর কাছে নিছকই নতুন অভিজ্ঞতা।

 

বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। বেইলি রোডে চা খেতে খেতে কথা হচ্ছিলো শাকিলের সাথে। কথা প্রসঙ্গে সে আমাকে বললো–

— মধ্যবিত্ত মেয়েদের প্রেমের ব্যাপারে এই সব  প্যানপ্যানানি আমার একদম সহ্য হয় না। শরীর নিয়ে এত বাধা আসলে মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।

চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললো শাকিল। আর শুধু বলাই নয়, শাকিল যে কথাগুলো বিশ্বাস করে, সে কথার প্রমাণ এই অল্প বয়সেই তার অজস্র বান্ধবী আর সম্পর্ক।

— তুই কি আবার নতুন কাউকে পটালি?

— আমি কাউকে পটাতে যাবো কেন? মেয়েরাই উলটা আমার কাছে এসে ধরা দেয়। এবার নাতাশা আমাকে নিয়ে খুব আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

— তাহলে কি এবার নাতাশার সাথেই কক্সবাজারে যাবি?

আমার কথার উত্তরে শাকিল ওর বিখ্যাত নিষ্পাপ হাসিটা ছড়িয়ে উঠে পড়ে।

— আজ যাই৷ অনেক গোছগাছ করার বাকী। ট্যুর থেকে ফিরে দেখা হবে তোর সাথে।

আমাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে শাকিল হনহন করে রাস্তার দিকে হাটতে শুরু করলো।

 

কক্সবাজারের নির্জন লবনাক্ত সৈকতের এক আলিশান হোটেলে নাতাশার শরীর সুধা পান করলো শাকিল। সম্ভোগের ঢেউয়ে ভেসে গেলো দিন রাতের বাঁধ; অভিযাত্রীর মত সর্বদা নাতাশার শরীর আবিষ্কারে মত্ত হয়ে রইলো শাকিল। দুদিনের জোয়ারের পর স্তিমিত সন্ধ্যায় ওর বুকে মাথা রেখে নাতাশার চোখ যখন জলে ভরে উঠলো, তখন শাকলের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি।

 

— তুমি কোনোদিনও আমাকে বুঝতে পারবে না শাকিল। কিন্তু আমি চাই একদিন তুমি বোঝ ভালোবাসার জ্বালা কি? আহত স্বরে বলে ওঠে নাতাশা।

 

— টেক ইট ইজি ব্যাবী, এসব ফালতু জিনিসে আটকে থাকলে জীবনটা এনজয় করাই যাবে না। একটাই জীবন, যত পারো উপভোগ করো। থেমে থাকাটা আমার জন্য নয়। সুন্দরের সন্ধান না থাকলে আর আমিও থাকবো না ; তাই বোধহয়   সুন্দরও নতুন রূপে ধরা দেয় আমার কাছে। না এসে উপায় থাকে না।

 

― তাই ? তা এখানে তো শুধু আমিই আছি। সুন্দর আর কিভাবে ধরা দিলো তোমার কাছে?

 

— শুনবে? শোন তাহলে―

তুমি তখন ঘুমিয়ে ছিলে আমি তখন বিকেলে বেরিয়েছিলাম সিগারেট কিনতে। সূর্যের শেষ কিরণ তখন আজকের মতো শেষ আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে সমুদ্রকে, লজ্জায় লাল হয়ে সেই আদরে ডুবে যাচ্ছে নিজেও।

 

বীচে বসে কফি আর সিগারেট খেতে খেতে উপভোগ করছি প্রকৃতির এই লীলা, ঠিক তখনই সেই মিরাকল হঠাৎ যেন রক্তমাংসের মানবী হয়ে দেখা দিলো সৈকতে। আঁচল তার পড়ন্ত রোদের আগুন, আর শরীর যেন ঢেউয়ের ছন্দ। তার বক্ষের উদ্ধত যৌবন পাহাড়চূড়ার মতো শেষ বেলার রোদকে ধরে রেখেছে পরম যত্নে, জাগিয়ে তুলছে স্বপ্ন-বাস্তবের রসে একাকার কোন এক রোমান্টিক কাব্য। আবার তার শাড়ির খাঁজে সোঁদা গন্ধের রহস্যে যেন সে নিজেই সমুদ্রও বটে! মনে হলো, সুন্দর বুঝি না বুঝি, এ তৃষ্ণা এড়িয়ে যাওয়া আমার হবে না। এ ডাকে যদি সাড়া না দিই, তবে তো মানবজনমই বৃথা !

 

নাতাশার অবাক চোখে চোখ রেখে আর একবার মুচকি হাসে শাকিল।

— আলাপ জমালাম ওই অল্প সময়ে। আর আমি অল্প সময়ে যে কাউকে আকৃষ্ট করতে পারি তাতো তোমার অজানা নয়। তার সাথে কথা বলে বুঝলাম আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। কারণ সে তার স্বামী বা সঙ্গীর সাথে নয়, মেয়ে আর শ্বাশুড়ির সাথে ঘুরতে এসেছে দেবী।

 

— তারপর ?

 

— তারপর আর কি ? আমাকে চিনে নিতে তার ভুল হয় নি; একাকী, সঙ্গী বিরহে কাটানো শুষ্ক জীবনে আমার মতো কোনো আশীর্বাদ তার প্রয়োজন ছিল। তাই আমি আপাতত এখানেই, অন্তত আরো কয়েকটা দিন। কাল তোমার সাথে ফেরা আমার আর হলো না। চিন্তা করিও না, গাড়ির টিকিট করা আছে, তোমার কোনো অসুবিধা হবে না। ড্রাইভার আমার অতি পরিচিত, ভালো ছেলে। কোনো ভয় নেই। তোমার সাথে ফিরতে পারছি না, ক্ষমা চাওয়া উচিত, তবু তোমার সাথে তো সে সম্পর্ক নয় আমার। ঢাকায় ফিরে কথা কথা হবে।

 

— তুই মানুষ না, পশুর চেয়েও অধম ! কাঁপা গলায় এটুকুই শুধু বলতে পারলো নাতাশা।

 

ঢাকায় ফিরে শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো চেষ্টা করেনি নাতাশা। শাকিলও করেনি অবশ্য। কক্সবাজার থেকে ফেরার গোটা রাস্তায় একটাও ফোন করেনি ও, ফিরে আসার পরেও না। নাতাশা আশাও করেনি। ভাবতেও চায়নি ও কি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে ! শাকিলেরর চ্যাপ্টার ওর জীবনে ক্লোস হয়ে গেছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিলো না।

 

শাকিল এমনই এক পুরুষ যার কাছে শরীরসুখের বাইরে কোনো সম্পর্কের কোনো মানে নেই। এমন একজন মানুষের সাথে তার পরিচয় ছিল, ভাবতেও লজ্জা করে নাতাশার, দেখা হওয়ার কথা তো অনেক দূর।

 

কিন্তু ভাগ্য কার সাথে কি খেলা খেলে, তা জানা অসাধ্য। কক্সবাজার থেকে ফেরার বছর খানেক পর নাতাশার সাথে ঠিক দেখা হয়ে যায় শাকিলের হঠাৎ করেই। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হয়তো পারতো সহজেই, কিন্তু সেটা করে উঠতে পারলো না শাকিলের দিকে তাকিয়ে। কি অবস্থা হয়েছে ওর!

 

“কেমন আছো নাতাশা?” ম্লান হেসে যখন জিজ্ঞেস করে শাকিল, কান্না পায় নাতাশার। একমুখ দাড়ি, উষ্কখুষ্ক চুল আর অগোছালো চেহারার এই ছেলেটা তার চেনা ফিটফাট, ক্লিনশেভড এবং হাল ফ্যাশনে সজ্জিত শাকিলের মত একেবারেই নয়, তাই বোধহয়। কথা গুলিয়ে যায় নাতাশার।

 

“ভালো আছো শাকিল?”

 

ওর সরল নিষ্পাপ হাসিটা আরও করুণ, যেন না জেনে কেউ মৃত্যুপথযাত্রী কে শৌখিন ক্যালেন্ডার উপহার দিয়েছে। মুখে হাসি রেখেই বলে উঠলো-

—  এইতো আছি ভালোই।

 

ওকে টেনে পাশের কফিশপে নিয়ে যায় নাতাশা। নিঃশব্দে কফি খেয়ে কেটে যায় সময়, মুখ তুলে দেখার কথা যেন মনে পড়ে না শাকিলের। কি বলবে ভেবে পায় না নাতাশা, অস্বস্তি এড়াতে মজার আশ্রয় নেয় নাতাশা–

— তা তোমার এমন দশা কেন? বিবাগী হয়ে যাবে নাকি?

নাতাশার কথা শুনে শাকিল একটা শুষ্ক হাসি দিয়ে বলে–

— হয়েই গেছি ধরে নাও।

 

— প্রেমে ছ্যাকা খেয়েছো নাকি? চোখ কপালে ওঠে নাতাশার। ডোন্ট টেল মি ইউ আর ইন লাভ অর সামথিং !!! অতটা নিতে পারবো না আমি।

এবার উচ্চস্বরে হেসে ওঠে শাকিল, এক মুহূর্তের জন্য চেনা চেনা লাগে তাকে।

 

— প্রেমকে আমি আজও মিডিলক্লাস সেন্টিমেন্ট বলেই ভাবি। অন্তত তোমরা যাকে প্রেম বলো তাকে। তোমাদের প্রেম সুন্দরের প্রতি আগ্রহকে অগ্রাহ্য করা, তার স্বাভাবিক বিস্তারকে একমুখী হওয়ার অবাস্তব শর্ত চাপানো ছাড়া আর কিছু নয়। তারপরই আবার সেই বিষন্নতা ফিরে আসে।পুকুরের পানা যেমন ঢিলের ক্ষত ঢেকে দেয়, তেমনই। ছাড় ওসব কথা, সত্যি বোধহয় আমাদের চেয়ে অনেক বড় রে। এত চট করে ধরা যায় না।

 

― কেনো, তুমিই তো বলতে শরীরই সবথেকে বড় সত্য, তাহার উপর নাই !

 

― ঠাট্টা করছো? তাও ঠিক, আমার সেটাই প্রাপ্য বটে।

 

– আরে না না, প্লিস মন খারাপ করিও না, আমি সেকথা বলতে চাইনি।

 

— আরে নাহ, মন খারাপ করবো কেন।

হেসে অভয় দেয় শাকিল,

— যখন জীবন ব্যঙ্গ করে, অন্য ঠাট্টা তখন গায়ে লাগে না।

 

― কি হয়েছে শাকিল? বলবে আমাকে?

 

― শুনবে ? শোন তাহলে―

চিরকাল শরীরকেই সত্যি মেনে এসেছি, সুন্দরকেও ভেবেছি শরীরী প্রক্রিয়া। অনুভূতি, ভালোবাসা মানুষের শৌখিন মজদূরী ছাড়া আর কিছুই ভাবিনি। সুন্দর যেখানেই দেখেছি, মত্তর মতো ছুটে গিয়েছি, আর কোনোকিছুর পরোয়া করিনি কখনো। এটাই জীবন ছিল আমার।

 

এই ভাবনায় ভর করেই কক্সবাজারে ছুটে গিয়েছিলাম সেই নারীর দিকে। তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে তার হোটেলেই ঠাঁই নিলাম ঠিক পাশেই। ওরা একটা হোটেলে, পাশেরটায় আমি। সারাদিন দেখা-সাক্ষাৎ হাসি ঠাট্টায় কাটলো ভালোই। আসলে ও কল্পনা করতে পারেন নি আমার পরিশীলিত চেহারার পিছনে অন্য অভিসন্ধি লুকিয়ে থাকতে পারে। আর তাই সেও আমার তালে তাল মিলিয়ে গেল সমানে। বুঝলাম, অপেক্ষা করতে হবে। খারাপ লাগলো না, বরং অভিসারের প্রতীক্ষায় উন্মুখ হয়ে রইলো প্রতিটি মুহূর্ত।

 

তারপর অবশেষে রাত আশার আলো নিয়ে এলো, নিস্তব্ধতা ঘোষণা করলো সেই মুহূর্তের আগমন। রাতের আঁধারে মিশে পৌঁছে গেলাম তার দ্বারে। রুমে তার মেয়ে আলো নিভিয়ে নিদ্রা দেশে, কিন্তু দ্বার যথারীতি উন্মুক্ত। প্রবেশ করেই ফেললেম। দেখলাম সে একা আলো-আঁধারি বারান্দায় পায়চারি করছে, বোধহয় আমারই প্রতীক্ষায়।

 

তার কাছে গেলাম, সদ্য স্নাত তার দেহের গ্রন্থিতে তখন চন্দনের সুবাস। আমার আলিঙ্গনে যখন সে ধরা দিলো, মন্থনের অপেক্ষায় তখন সর্বাঙ্গে কম্পন। অনিচ্ছা থাকলেও পরের দিনই চলে যেতে হবে তাকে। আমাদের বলতে তাই সেই একটি মাত্র রাত, মাত্র কয়েক ঘন্টা।

 

কথা দিলাম, সে কয়েক ঘন্টায় আমরা খুঁজে নেবো একজীবনের সুখ, সব মেকি বাঁধন অস্বীকার করে তৃপ্ত করবো তার উপোসী শরীরকে। রুমে ওর মেয়ে ঘুমিয়ে, তাই বারান্দাতেই চলবে আমাদের লীলাভূমি; তাদের আড়ালে থেকে আমরা যখন এক হবো, সাক্ষী থাকবে খোলা আকাশ।

 

আমাদের সুখশয্যা সাজিয়ে তার জন্য আনতে গেলাম ফুল। বাগান থেকে নয়, ঘরের ভিতর  ফুলদানী থেকে। বেড়িয়ে আসছি, হঠাৎ মৃদু ক্রন্দনে থমকে দাঁড়ালাম– কে যেন কাঁদছে? কাছে যেতেই দেখি ওর মেয়ে টা ফুফিয়ে কাঁদছে। ভয়ের স্বপ্ন দেখেছে বোধহয়, ভেবে মাথায় হাত বুলোতে গিয়ে দেখি, গা আগুন। জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ছোট্ট শরীরটা !

 

তাকে ডাকলাম। মেয়েটার অবস্থায় অতি বিচলিত মনে হলো না তাকে, কারণ সে বোধহয় আগে থেকেই জানতো ওর শরীর খারাপ। বিনা বাক্যব্যয়ে মেয়েটার জ্বর মাপলো সে। ওর হাতের ছোঁয়ায় জেগে উঠলে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর দিলো খানিকটা। ওর ইশারায় ব্যাগ থেকে ওষুধ বার করে খাইয়ে দিলাম তাকে ।

 

সামনের চেয়ারে বসে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, তা খেয়াল নেই। হঠাৎ কানে এলো একটা চাপা গলা। ভাবলাম স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু শব্দগুলো ঘুম কেড়ে নিলো এক লহমায়। শব্দ নয়, আসলে মৃদু ভর্ৎসনার আড়ালে শাসানি, “চুপ করে চোখ বন্ধ করে থাকো, ঘুম এসে যাবে। আর জ্বালিও না আমায়, আর একদম ডাকাডাকি নয়। ওষুধ দিয়েছি, এমনিই ঘুম এসে যাবে।

 

চোখ বন্ধ থাকলেও চাপা কান্নার মত আওয়াজ বলে দেয় ছবিটা। চোখ খুলতে ইচ্ছে করে না। যে স্পর্শ পাগল করছিল কিছুক্ষণ আগে, তা যেন এখন কুঞ্চিত করে আমাকে। ওর স্পর্শে তবু সাড়া দিই আমি, প্রতীক্ষা অবসানের হাসি হাসি।

 

কোনো নারীর কামনার সামনে নিজেকে নগ্ন বলে সংকোচ হয়, জীবনে প্রথমবার। তবু থাকি, ওকে সঙ্গ দিই আমার সাজানো বারান্দায়। শুধু চোখ দুটো ঘরের বিছানায় আটকে থাকে, যেখানে কান্না চাপতে চাপতে ওষুধের ঘোরে একটা মেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে হাতটা বাড়িয়ে শূন্যতা হাতড়ায়।

 

বেশ্যা যেমন তার পেশাদারী নিপুণতা দিয়ে চেষ্টা করে, যাতে খদ্দের তাড়াতাড়ি তৃপ্ত হয়, ঠিক তেমন বিজাতীয় আবেগে প্রশ্রয় দিই তাকে। ওকে তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়িয়ে চলে আসি ঘরে, মেয়েটাকে কোলে তুলে নিতে। সে বেচারি ওষুধের ঘোরে বোধহয় বুঝতেও পারে না, পারলেও আমি কে, তা তো নয়ই।

 

ভোর বেলা মেয়েটার জ্বর কমলে ফিরে আসি কিছু না বলেই। আর একমুহূর্ত থাকিনি হোটেলে। আর করবোই বা কি, আমার তো সব ওলটপালট হয়ে গেছে ততক্ষণে―

 

সুন্দরকে যে রূপে পেয়েছি ছোট্ট মেয়েটার হাসিতে, তা আমার এতদিনের শরীর সুখের অতীত। সুন্দরের এই রূপ, তার ব্যাপ্তি, প্রশান্তি, তার সুখ, তার কাছে আমার সারা জীবনের শরীরের প্রাপ্তি কণা মাত্র নয়।

 

নিজেকে বড় ব্যর্থ মনে হলো, বড় বিভ্রান্ত। বুঝলাম, পুরোনো সুখের সে পথে , শরীরের মাদকীয়তার পথে যাওয়া আমার আর হবে না।

 

এখন যখনই সুন্দরের কথা ভাবি, সুখের কথা ভাবি, সেই নিষ্পাপ মুখের হাসিটাই মনে পড়ে, আর কিচ্ছুটি না। তাই সেটুকু নিয়েই আছি, নিজের সুন্দরের পথ হাতড়ে বেড়াবার তৈয়ারি নিচ্ছি বলা যায়। খুঁজে তাকে পাবই কোনো না কোনো রূপে, কি বলো?

 





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com