সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মাজার কতটুকু নিরাপদ: আবছার তৈয়বী

বাংলাদেশের মাজার কতটুকু নিরাপদ: আবছার তৈয়বী

পাকিস্তানের বিখ্যাত সুফী সাধক হযরত আলী হাযবেরী প্রকাশ দাতা গঞ্জে বখশ (রহ.) মাজারের ২ নং গেইটে আচনক আত্মঘাতি বোমা হামলায় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো মাজার কমপ্লেক্স। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায়, ইতোমধ্যে এতে ৮ জন নিরাপরাধ মানুষ শহীদ হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জনেরও বেশি মানুষ। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, বরাবরের মতো এই হামলার পেছনে সরাসরি ইহুদী দুষ্টচক্র কর্তৃক সৃষ্ট ও পরিচালিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আইএস’র হাত রয়েছে। প্রতিটি জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যেভাবে হম্বিতম্বি করে, এবারও সে রকম হম্বিতম্বি করছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নিরপরাধ মানুষ জঙ্গিদের হাতে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা- এক সময় জঙ্গিদের মদদ দিয়ে পাকিস্তান যে ভুল করেছে, এখন সেই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে।

ইহুদী সৃষ্ট ‘আইএস’ নব্য সালাফীবাদের সামরিক শাখা। সালাফীবাদ সৃষ্ট হয়েছে ওহাবীবাদ থেকে। আর ওহাবীবাদ সৃষ্ট হয়েছে- কুখ্যাত খারিজি মতবাদ থেকে। বলতে গেলে ‘আইএস’ হচ্ছে- খারিজি মতবাদের সর্বাধুনিক সংস্করণ। খারিজিবাদ বলুন, ওহাবীবাদ বলুন কিংবা সালাফীবাদ বলুন- সবগুলো সরাসরি দুষ্ট যায়নবাদী ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনায় সৃষ্ট। ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে যখন যেটা প্রয়োজন, ইহুদীরা সেটাই সৃষ্টি করে বাজারে ছাড়ে। এর পেছনে ইহুদীরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে এবং কীভাবে দুনিয়া থেকে ইসলাম ও মুসলমানকে মিটিয়ে দেয়া যায়- তার জন্য বহু ফ্রন্টে কাজ করছে। তাদের মূল সূত্র হলো- ‘মুসলমানকে মুসলমানের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়ে তামাশা দেখা এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানকে সন্ত্রাসী ও ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা’। তাদের মূল লক্ষ্য হলো- মুসলমানদের অন্তর থেকে রাসূল (দরুদ) প্রেম ছিনিয়ে নেয়া। খায়বারে জিল্লতির প্রতিশোধ নেয়াটাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যে মূলতঃ হেজায-ভুমিতে ওহাবী গোত্রবাদী রাষ্ট্র ‘সৌদি আরব’ প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বব্যাপী ওহাবীবাদ প্রচার হয়েছে। ওহাবীবাদ মূলতঃ বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ। ওহাবীবাদের ষড়যন্ত্র যখন মুসলমানরা টের পায়- তখন তারা ইহুদীসৃষ্ট সালাফীবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। ওহাবীবাদ ও সালাফীবাদ কৌশলে মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করছে। আর সালাফীবাদের সামরিক সংগঠন ‘আইএস’ কেড়ে নিচ্ছে- মুসলমানদের জান-মাল এবং ইজ্জত ও সম্পদ। ওহাবীবাদ, সালাফীবাদ, মওদুদীবাদ, আহলে হাদিস, তবলীগ এবং আইএস, আইএসএল, আইএসআইএস, তালিবান, আল কায়েদা, বুকো হারাম, আল শাবাব, তুতিসি, আবু সায়েফ, নুসরা, আল নুসরা ফ্রন্ট, জায়শ মোহাম্মদ, লস্করে তাইয়েবা, সিপাহে সাহাবা, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরীর এবং জেএমবি প্রত্যেকটাই দেশ ও রাষ্ট্রভেদে তাদের ‘ব্রান্ড নেইম’। এদের সবারই লক্ষ্য এক, উদ্দেশ্য এক এবং আকিদাও অভিন্ন।

সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে ওহাবীবাদ বলতে গেলে পুরোপুরিভাবেই প্রতিষ্ঠিত। ‘সালাফীবাদ’ ইতোমধ্যে আলোড়ন তুলেছে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে ওহাবীবাদ ও সালাফীবাদ ভিন্ন মনে হলেও তাদের জম্মস্থান এক, তাদের জনক এক এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকও এক। সুন্নী মুসলমানরা এদের জানের দুষমন। মুসলমানদের ‘মুশরিক’ বানানোই তাদের একমাত্র কাজ। সরাসরি সৌদি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এক আলবানীই তাজিমে মুস্তাফা ও হুব্বে মুস্তাফা, শানে আওলিয়া ‌এবং মুসলামদের কৃষ্টি-সভ্যতা ও আকিদা বিষয়ে যতোগুলি হাদীস আছে- সবগুলোকে ‘জাল’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ওহাবীবাদ ও সালাফীবাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শত শত ঘোমটা মৌলভী তারা বাজারে ছেড়েছে, মিডিয়ায় ছেড়েছে এবং হাটে, ঘাটে, মাঠে ছেড়েছে। তারা শাহজালালের (রহ.) মাজার লাথি মেরে ভেঙে ফেলার কথা বলে। আউলিয়াদের মাজার মাটির সাথে মিটিয়ে দিতে মানুষকে উজ্জীবিত করে এবং জঙ্গিদের মাধ্যমে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চায়। জঙ্গিবাদী বোমায় ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া ও পাকিস্তানে যদি মাজার উড়ে যেতে পারে- তো বাংলাদেশেও তা পারে। সেখানে নিরীহ মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারলে, বাংলাদেশে তা আরো বেশি করে পারে।

কিন্তু সুন্নী মুসলমানরা ওহাবীবাদ ও সালাফীবাদের তৎপরতা সম্পর্কে পুরোপুরি বেখবর। সুন্নীরা আছে- ওরশ, মাজার ও মাহফিল নিয়ে। ওরা দরস ও তাদরীস, মাদ্রাসা, প্রকাশনা, মিডিয়া ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যুগোপযোগী ও পরিকল্পতি কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সুন্নী ঘরের সন্তানকে ‘ব্রেইন ওয়াশ’ করে ওহাবী ও সালাফী মতবাদে দীক্ষিত করছে। সুন্নীর খেয়ে সুন্নীর ঘরেই বেড়ে উঠছে- ওহাবী ও সালাফী অমানুষ। বাংলাদেশের জনমানুষ ওহাবীবাদ ও সালাফীবাদের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে পড়েছে। ওরে বেখবর সুন্নী! ওহাবী, মওদুদী ও সালাফীরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে, তোমরাও কর। ওরা মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে এবং মিডিয়া কব্জা করেছে- তোমরাও কর। ওরা আর্থিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নানামূখী প্রতিষ্ঠান করেছে- তোমরাও কর। শুধু মাজার ও ওরস নিয়ে পাগল হয়ো না। প্রকাশনা, মিডিয়া, দাওয়াত ও তাবলীগ, তথ্য-প্রযুক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়তে এগিয়ে যাও। ওহে সুন্নী ভাই সকল! তোমরা সাবধান হও, সচেতন হও এবং ঐক্যবদ্ধ হও। ঈমানী দাবিতে ঐক্য গড়ে তোল। আমলের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ো। নতুন নতুন প্রথা ও কথা সৃষ্টি করে বিভেদ করো না। মাজারে যতো রকমের কুসংস্কার ও খোরাফাত আছে- সব সমূলে উৎখাত করো। তোমরা বৈপরীত্যের বিভেদ দেখো না, তোমাদের মাঝে কী কী মিল আছে- তাই দেখো। সেনসিটিভ হয়ো না, টলারেন্স এখতিয়ার করো। খায়েন হয়ো না, আমানতদার হও। কটূভাষী হয়ো না, মিষ্টভাষী হও। অন্যের দোষ তালাশ না করে নিজের দোষ দেখো। আত্ম-সমালোচনা করো। হামবড়া মনোভাব ত্যাগ করো। ‘দাও-খাই আর বিত্ত গড়ি’ মনোভাব ত্যাগ করো। দীনের পথে ব্যয় করতে অভ্যস্থ হও। নিজেদের মধ্যে ইখলাস, খুলুসিয়ত, মুহাব্বত ও ভালোবাসা পয়দা করো। পরস্পর পরস্পরের কাছে যাও, পাশে দাঁড়াও, সাথে বসো। আর পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাও। নইলে তোমাদের আমও যাবে, ছালাও যাবে।





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com