সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন

সুবন্তর সঙ্গে আড্ডা: মুহিম মনির

সুবন্তর সঙ্গে আড্ডা: মুহিম মনির

সুবন্তর সঙ্গে আড্ডা

মুহিম মনির

 

মুহিম মনির: কেমন আছেন, ভাইজান?

সুবন্ত যায়েদ: বেশ ভালো আছি, ভাইটি। তুমি?

মুহিম: বেশ আছি। কথা হচ্ছে, একসঙ্গে তো আপনার দুটো বই বেরুচ্ছে। একটি কলকাতা থেকে আরেকটি ঢাকার একুশে বইমেলয়। তা এ মুহূর্তে কেমন কেমন লাগছে বলুন তো?

সুবন্ত: শুরুটা ভালো। শুরু বলতে সকলে যেটা বলে আরকি। একটা সম্মাননা, দুটো বই দুই দেশের মেলায়। কিন্তু সম্মাননা বড়ো মনে হয় না আমার। বড়ো তো ব্যক্তি। আমাকে সম্মাননা দিলো। মানুষ জানলো বা জানবে। কিন্তু কোন ব্যক্তিকে এটা প্রদান করা হলো, তাকে দেবার সূত্র কি? এসব মানুষ বিচার করে। এই বিচারে যদি আমি টিকে থাকি দীর্ঘ একটা সময়, তখন আমার মূল্যায়ন হবে, মূল্যায়ন হবে সম্মাননারও। কতো লোক বাংলা একাডেমি পেলো, ব্যাক্তি না টিকলে, সম্মাননার কথাও কখনো কেউ বলবে না। ব্যক্তির টিকে থাকাটা বড়। আমার সম্মাননা দিলো ঐহিক। কিংবা দেবে, এসব  মানুষ ভুলে যাবে, যদি আমি না টিকি। দেখছ, একা একা বকবক করছি। হা হা…

মুহিম: বেশ জমেছে তো! আড্ডা তো এমনই হবে। হা হা… তা যদি জানতে চাই, প্রথম বই কোনটি? তাহলে কোনটির কথা বলবেন? দুটোই তো ফেব্রুয়ারিতে এলো।

সুবন্ত: এই প্রশ্নটা জটিল হয়ে গেলো আমার জন্য। ঐহিক সম্মাননা দিলো প্রথম বইয়ের সূত্র ধরেই। এদিকে ঐতিহ্যও তাদের প্রচারণায় প্রথম বই লিখেই প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু বাজারে এসেছে ‘কতিপয় মৃত্যুপ্রকল্পের প্রাণ’ আগে। সবমিলে বিষয়টা এমনি। দুটো বইই আসলে প্রথম।

মুহিম: তারপরও ‘মনোদৈহিক স্মৃতিবেদনারা’ই হবে কি? যেহেতু প্রথম বই হিসেবেই সেটি সম্মাননা পেলো।

সুবন্ত: সে হিসেবে ধরতে গেলে, একটাকে এগিয়ে রাখতে গেলে, ‘মনোদৈহিক স্মৃতিবেদনা’টাই ধরা যেতে পারে।

মুহিম: বইটিতে কয়টি গল্প আছে?

সুবন্ত: ৮টি গল্প।

মুহিম: গল্পগুলো কি একই সময়ে লেখা?

সুবন্ত: পুরোনো গল্প আছে তিনটি। যেগুলো তিন বছর আগে লিখেছিলাম। বাকি পাঁচটা গল্প নতুন। যেগুলো তিন চার মাসের মধ্যেই লেখা। এবং এই নতুন লেখা গল্পগুলোর ওপর নির্ভর করেই মূলত নামকরণ করেছি।

মুহিম: বাহ! বেশ তো! আমাদের যাপিত জীবনই কি গল্পগুলোর জায়গাজমি নাকি ভিন্ন কোনো আখ্যানে দাঁড় করিয়েছেন তাদেরকে?

সুবন্ত: যেহেতু স্মৃতিবেদনা, মনে ও দেহে যেসব স্মৃতিবেদনা জড়িয়ে থাকে, সেসব দেখার চেষ্টা করেছি। তুমি যদি বিষয়টা দেখো, বেদনার সময়টাতে একমাত্র অতীতটাই এসে পড়ে সঙ্গ দিতে। বয়ে নিয়ে যাবে তোমাকে। যতোক্ষণ না জেগে উঠবে তুমি। সেই সকল মুহূর্তরা কেমন? যখন আমরা স্মৃতিবেদনায় আক্রান্ত হই? সেসব অনুভূতি মূলত এসব গল্পে। আমি পেছনে ফিরে দেখতে চেয়েছি। এই পেছনে ফিরে তাকানোটাও কিন্তু আমাদের জীবনের জন্য বড় এক আয়োজন। সবার জন্যই।

মুহিম: একদম। আর ‘কতিপয় মৃত্যুপ্রকল্পের প্রাণ’ গ্রন্থের গল্পগুলো?

সুবন্ত: এখানে আমাদের জীবনটা যেভাবে দেখি, বয়ে চলি, তার যাপন যেমন আছে, আবার আছে এমন যাপন, যে যাপন আমাদের মাথার ভেতরে শুধু থাকে, সেসব গল্পও আছে। কিন্তু সমস্তটা মিলে যেটা আছে, সেটা এক মৃত্যুপ্রকল্প! যে প্রকল্পে মানুষের প্রাণ লালিত হয়। মানুষই সে প্রকল্প রচনা করে। বাকিটা সহায়তা করে প্রকৃতি।

মুহিম: আপনাকে কিন্তু বেশ জ্বালাচ্ছি।

সুবন্ত: নাহ। যাচাই করে নিতে পারছি নিজেকে।

মুহিম: হুম। সময়ের গল্পকার হতে চলেছেন। একটু চেক করে নেবো না। হা হা…

সুবন্ত: হা হা…

মুহিম: আচ্ছা, ঐতিহ্য’র প্যাভেলিয়নে তো ‘কতিপয় মৃত্যুপ্রকল্পের প্রাণ’ পাওয়া যাচ্ছে। তা ‘মনোদৈহিক স্মৃতিবেদনারা’ বাংলাদেশে কবে নাগাদ কোন প্রকাশনীর স্টলে পাবো, এমন কিছু জানা গেছে কি?

সুবন্ত: এটা বাংলাদেশে ১৩/১৪ তারিখ নাগাদ পাওয়া যাবে। লিটলম্যাগ চত্বরে, খড়িমাটির স্টলে।

মুহিম: বাহ! জেনেও আনন্দ! অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাইজান। অনিঃশেষ শুভ কামনা আপনার জন্য।

সুবন্ত: ভালোবাসা নিও!

মুহিম: নিলাম। হা হা…

সুবন্ত: হা হা…

 

 

 

 

 

 

 

 

 





© Agooan News 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com